ছানোয়ার হোসেন,মফস্বল সম্পাদক,বিজয় বিডি ৭১
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটভিত্তিক প্রার্থী ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের অঙ্গসংগঠনের ভূমিকা। জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা নিজ নিজ আসন ছেড়ে দেন এবং জোটের প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আচরণ প্রমাণ করে দলীয় শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক পরিপক্বতা। কোনো ধরনের প্রকাশ্য অসন্তোষ, বিদ্রোহী তৎপরতা কিংবা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার এই দৃষ্টান্ত সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে বলেই মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে, জোটের অপর একটি দলে মনোনয়ন না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন জেলায় একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। কোথাও কোথাও প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাফনের কাপড় পরে রাস্তায় নেমে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে দেখা গেছে তাদের।
এই দুই দলের ভিন্ন আচরণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও নৈতিকতার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকের মতে, ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে এসে আদর্শিক রাজনীতি চর্চার ক্ষেত্রেই এই পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আদর্শিক দৃঢ়তার মাধ্যমেই তারা ধীরে ধীরে মানুষের হৃদয় জয় করে নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলে বারবার উচ্চারিত হচ্ছে ওসমান হাদির সেই বিখ্যাত উক্তি—
“আমি আমার শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে চাই।”
উপসংহার
সব মিলিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেখানে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিভক্তি ও অস্থিরতা ক্রমেই প্রকট, সেখানে জামায়াত-শিবির তাদের শালীনতা, ধৈর্য ও দলীয় শৃঙ্খলার মাধ্যমে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জোটের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সহযোগিতার অঙ্গীকার কেবল রাজনৈতিক পরিপক্বতারই পরিচয় নয়, বরং নৈতিক রাজনীতির একটি শক্ত বার্তাও বহন করে। এই সততা ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতিই ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজ ডেস্ক,অনলাইন